প্রকাশিত: Tue, Feb 28, 2023 3:24 PM
আপডেট: Mon, Jan 26, 2026 4:08 PM

সন্ত্রাস মোকাবিলায় বাংলাদেশের আইন শৃঙ্খলা

জাফর খান: যুক্তরাষ্ট্রর স্টেট ডিপার্টমেন্ট প্রকাশিত এ রিপোর্টে বলা হয়েছে, আধুনিক যন্ত্রপাতি ও লোকবল বাড়ানোর মধ্যদিয়ে স্থল, নৌ সীমান্ত নিরাপত্তাসহ বিমানবন্দরের কর্মকাণ্ড পরিচালনায়  আইন শৃঙ্খলা বাহিনী সক্ষমতার সঙ্গে কাজ করার চেষ্টা করে যাচ্ছে। তবে বাংলাদেশের বিমানবন্দরের নিরাপত্তা এখনও ততটা শক্তিশালী নয় বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। ওয়েব সাইট

এতে বলা হয়, সম্প্রতি দেশটির ই পাসপোর্ট চালু করা প্রশংসার দাবি রাখে। একইসঙ্গে ইণ্টারপোলের সঙ্গে তথ্য বিনিময়ও করছে সংশ্লিষ্ট বিভাগ। এতে মার্কিন অপরাধী তালিকার অন্তর্ভূক্ত কোনো অপরাধীর নাম পাওয়া যায়নি। তবে বাংলাদেশ এখনও এপিআই/ পিএনআর ব্যবহারে কিছুটা পিছিয়ে যেটির মাধ্যমে যাত্রী তথ্য পর্যবেক্ষণ আরও সঠিকভাবে করা সম্ভব হত। 

আরও বলা হয়, ২০১৯ সালে অ্যান্টি-টেররিজম ইউনিট (এটিইউ) হলি আর্টিজান ঘটনার সঙ্গে যুক্ত সাতজন আসামীকে মৃত্যুদণ্ড দেয়। পড়ে তারা সর্বোচ্চ আদালত সুপ্রীম কোর্টে আপিল করলেও তা খারিজ করে দেন আদালত। প্রতিবেদনটিতে দেশটির আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর প্রশংসা করে ২০২১ সালের মে, জুলাই এবং সেপ্টেম্বর মাসের তিনটি ঘটনা তুলে ধরে স্টেট ডিপার্টমেন্ট।

বলা হয়, ২০২১ সালের ১৭ মে নারায়ণগঞ্জে একটি পুলিশ বক্সের সামনে রিমোট-কন্ট্রোল্ড বোমা পাওয়া গেলে পরে যুক্তরাষ্ট্র থেকে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা একটি মার্কিন রিমোট-কন্ট্রোল্ড রোবট দিয়ে ওই বোমাটি নিষ্ক্রিয় করেন।

একই বছরের ১১ জুলাই নারায়ণগঞ্জে বাংলাদেশ পুলিশের কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিট (সিটিটিসি) একটি নব্য-জেএমবি জঙ্গি আস্তানায় অভিযান চালিয়ে ইমপ্রোভাইজড এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস (আইইডি), বোমা তৈরির উপকরণ, অস্ত্র, গোলাবারুদসহ ভবিষ্যতে সম্ভাব্য হামলার জন্য নব্য-সৃষ্ট জেএমবির বেশ কিছু পরিকল্পনার নথি উদ্ধার করে।

আরেক ঘটনায় উল্লেখ করা হয়, সেপ্টেম্বরের ১৬ তারিখে গুলশান ডিপ্লোম্যাটিক অঞ্চলে দেলোয়ার হোসেন নামক এক ব্যক্তি একটি গাড়ি লক্ষ্য করে বোমা ছোড়া হয়। উক্ত ‘সন্ত্রাসী’ ধারণা করে গাড়িটি মার্কিন দূতাবাসের। পড়ে তাকে গ্রেপ্তার করে আইন শৃঙ্খলা বাহিনী। 

প্রতিবেদনটিতে আরও বলা হয়, সন্ত্রাস দমনে কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিট, অ্যান্টি-টেররিজম ইউনিট (এটিইউ) এবং র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব) তাদের অভিযান অব্যাহত রাখায় সন্দেহভাজন জঙ্গিদের গ্রেপ্তারেও সক্ষম হয়। ওই বছরেই সিটিটিসি ৪০টি মামলার তদন্ত করার পাশাপাশি  ৮৫ জনকে গ্রেপ্তার করে। এদের মধ্যে বেশির ভাগই রাজধানী ঢাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। অন্যদিকে চট্টগ্রাম পুলিশ ৪০টি ঘটনায় ১০ জনকে গ্রেপ্তার করে।

এতে করে বোঝা যায়, এটিইউ তাদের সক্ষমতা বাড়িয়েছে। এসময় প্রায় ৭৫টি মামলার তদন্ত করেছে সংস্থাটি। দেশের অন্যান্য বাহিনী, বিশেষ করে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি), স্পেশাল ব্র্যাঞ্চ (এসবি), এভিয়েশন সিকিউরিটি, এয়ারপোর্ট ইমিগ্রেশন পুলিশ এবং এয়ারপোর্ট আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন সবাই স্বাধীনভাবে কাজ করেছে বলে ওই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। সম্পাদনা: সালেহ্ বিপ্লব

 মার্কিন প্রতিবেদন